• ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Dada Saheb Falke

বিনোদুনিয়া

দাদাসাহেব পুরস্কার মিঠুন চক্রবর্তী ছাড়া আর কোন কোন বাঙালির ঝুলিতে আছে?

দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার পাচ্ছেন মিঠুন চক্রবর্তী। সিনেমাটিক কেরিয়ার অনবদ্য তাই এই পুরস্কার জুটেছে গৌরাঙ্গর। এর আগে তিনি তিন তিনটে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। পেয়েছিলেন পদ্ম ভূষণ পুরস্কার। এর আগেও একাধিক কৃতী বাঙালি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। রইল সেই তালিকা:বীরেন্দ্রনাথ সরকারঃ চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং পরিচালক হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন বীরেন্দ্রনাথ সরকার। ১৯৭০ সালে তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পান। কলকাতার হেয়ার স্কুলের অধ্যক্ষ পেয়ারী চরণ সরকারের প্রপৌত্র। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করেন। তারপরই ভারতে ফিরে সিনেমা নির্মাণে মনোযোগ দেন। পুনর্জন্ম, জিন্দা লাশ, কপালকুণ্ডলা, পল্লীসমাজ, মাসতুতো ভাই, সীতা আরও অনেক ছবির জন্য বিখ্যাত। পঙ্কজ মল্লিকঃ মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠানের কম্পোজার পঙ্কজ মল্লিক ১৯৭২ সালে পেয়েছিলেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। বহু ছবিতে তিনি সুরকার হিসেবে কাজ করেছেন। তবে দেবী দুর্গার আহ্বানে তাঁর যে সুর বাঙালির মনে রয়ে গিয়েছে, সেটি ভোলার নয়।ধীরেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলিঃ পরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলি ১৯৭৫ সালে পেয়েছিলেন এই পুরস্কার। হিন্দি এবং বাংলা ছবিতে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে ভূষিত করা হয় দাদা সাহেব ফালকে সম্মানে। তাঁর পরিচালিত ছবির মধ্যে, বিলেত ফেরত, চরিত্রহীন, রাজিয়া বেগম, ইন্দ্রজিৎ, বিমাতা, চিন্তামনি আরও উল্লেখযোগ্য।কানন দেবীঃ বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র কানন দেবী। তাঁর সৌন্দর্যের সঙ্গে সঙ্গে অভিনয় দক্ষতা ছিল অতুলনীয়। ১৯৭৬ সালে তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পেয়েছিলেন। মুক্তি, বিদ্যাপতি, জওয়াব, শেষ উত্তর, মেজদিদি, রাজলক্ষী ও শ্রীকান্ত, ঋষির প্রেম ছবির জন্য বিখ্যাত।নীতিন বসু এবং রাইচাঁদ বড়ালঃ নীতিন বসু এই পুরস্কার পান ১৯৭৭ সালে। বাঙালি এই পরিচালক এবং সিনেমাটোগ্রাফার দিদার, ধুপ ছায়ো, ওয়ারিস, ভাগ্যচক্র, চণ্ডীদাস ছবির জন্য বিখ্যাত। অন্যদিকে ঠিক তাঁর পরের বছর ১৯৭৮ সালে এই পুরস্কার পান রাইচাঁদ বড়াল। তিনি মিউজিক কম্পোজার।সত্যজিৎ রায়ঃ বাংলা ছবিকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে গিয়েছেন সত্যজিৎ রায়। তিনি১৯৮৪ সালে এই পুরস্কার পান। পথের পাঁচালী ছবির মাধ্যমে তিনি ভারতীয় সিনেমার অন্যন্য রূপ তুলে ধরেন। তারপর, শাখা প্রশাখা, কাঞ্চনজঙ্ঘা, জলসাঘর, গুপি গাইন বাঘা বাইন, সোনার কেল্লা, নায়ক, চিড়িয়াখানা, আরও অনেক ছবি। অস্কারও পেয়েছেন এই কালজয়ী পরিচালক।মৃণাল সেনঃ বাংলা ছবির আরেক পরিচালক, আন্তর্জাতিক স্তরে বেশ জনপ্রিয়। মৃণাল সেন এই পুরস্কার পান, ২০০৩ সালে। ভুবন সোম, আকালের সন্ধানে, চালচিত্র, মৃগয়া, একদিন প্রতিদিন, কলকাতা ৭১ ছাড়াও নানা ছবির পরিচালক তিনি। মান্না দেঃ মান্না দে, যার সুরেলা কন্ঠে ভেসেছে বাংলা তথা গোটা ভারতবর্ষ, তাঁকে ২০০৭ সালে দেওয়া হয়েছিল এই পুরস্কার। একের পর এক গান তো বটেই, তাঁর সঙ্গে দুটি ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন মান্না দে।তপন সিনহাঃ খ্যাতনামা পরিচালক তপন সিনহা ২০০৮ সালে পেয়েছিলেন এই পুরস্কার। কাবুলিওয়ালা থেকে শুরু করে ঝিন্দের বন্দী, আপনজন, বাঞ্ছারামের বাগান, অতিথির মত ছবি তিনি উপহার দিয়েছেন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ঃ বাংলা ছবির ফেলুদা, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে দেওয়া হয়েছিল দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। তিনি ২০১১ সালে এই পুরস্কার পান। ভারতীয় সিনেমায় তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য, এমনকি সত্যজিৎ রায়ের চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার যে পারদর্শিতা তিনি দেখিয়েছেন, তা অকল্পনীয়।এবার ওই তালিকায় আরেক নাম যোগ হলঃ মিঠুন চক্রবর্তী। তাঁর ভক্ত মহল আনন্দে উল্লাসিত।

অক্টোবর ০১, ২০২৪
দেশ

যতদিন সঙ্গীত থাকবে, ততদিন লতাজি থাকবেন আমাদের মধ্যে

আমার শৈশবটাই শুরু হয়েছে লতাজির গান শুনে। আমার মা আমাকে ছোটো বেলায় লতাজির গান শোনাতো। সেই স্মৃতি যে কত সুন্দর বলে বোঝানো যাবে না। কত সুন্দর সুন্দর গান শুনতে শুনতেই বড় হয়ে উঠেছি। আমি ভাবি আজকের দিনে শৈশবটা এরকম হয় কিনা জানি না। আজকের দিনেও বাচ্ছারা লতাজির গান শুনতে শুনতে বড় হচ্ছে কিনা বলতে পারবো না।আজকের প্রজন্মের কথা না জানলেও আমার শৈশবটা খুবই সুন্দর ছিলো। আমার জীবনে প্রথম লতাজির গাওয়া গান যারে, যারে উরে যারে পাখি। এই গানটি মা-বাবার হাত ধরে গুটি গুটি পায়ে পাড়ার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাইতাম। আজকের দিনের মত সেই সময় এত বেশী রিয়েলিটি শো ছিলো না। পাড়ায় পাড়ায় বিভিন্ন ক্লাবে গানের কম্পিটিশন হত। সেখানে যোগ দিতাম।আমি ছোট বেলায় লতাজির গাওয়া পিয়া বিনা বাসিয়া, দিল হুম হুম করে, এরি পবন আমি গাইতাম। এ ছাড়াও ওনার গাওয়া বিভিন্ন গান আমি মঞ্চে পরিবেসন করতাম। এই কয়েকদিন আগেই আমি ওনার গান ইয়ে শামা শামা হ্যায় প্যার কা...। ওনার গান যেমন শুনতে ভালো লাগে সেরকমই আমরা যাঁরা সঙ্গীত পরিবেশন করি, তাঁদের কাছে ওনার গান গাওয়া-টাও তার থেকে বেশী আনন্দের।আমি ব্যাক্তিভাবে মনে করি ওনার গান শুনেই অনেক কিছু শেখা যায়। আমি নিশ্চিত এই কথাটার সঙ্গে অনেক শিল্পীই সহমত হবেন। তাই আমরা যাঁরা আজও ওনার গান পুনঃনির্মাণ করার চেষ্টা করি সেটা শুধু চেষ্টাই থেকে যাই, তাঁর ধারে কাছে পৌছানো যায় না। একজন শিল্পীকে ওই যায়গায় পৌছাতে গেলে কতটা ডিসিপ্লিনড হতে হয় তাঁর অন্যতম উধাহরণ লতা মঙ্গেশকর। আজকের দিনটা আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, ভীষণ ভীষণ খারাপ লাগছে বলতে, যাকে আমি মন প্রাণ দিয়ে ছোট বেলা থেকে ভালোবেসে গিয়েছি তিনি আর আজ আমাদের মধ্যে নেই এটা ভাবতে পারছি না। কিন্তু তিনি তাঁর গানের মাধ্যমে আজও আমাদের মধ্যে থেকে গেছেন এবং থেকে যাবেন। উনি আমাদের কাছে অমর। যতদিন সঙ্গীত থাকবে ততদিন লতাজি থাকবেন আমাদের মধ্যে। আমরা সারাজীবন তাঁকে এই ভাবেই ভালোবেসে যাবো।

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২২
দেশ

"মেয়ে কি লতা মঙ্গেশকর হবে নাকি", এই কটাক্ষ জেদ বাড়িয়েছে সৌমিতা সাহার

দেবী সরস্বতীর মূর্তি পূজার প্রচলন বাংলা তথা সমগ্র ভারতে আর সকল বাড়ির মতো আমার বাড়িতেও রয়েছে। চতুর্থীর সকাল থেকেই ঘোর অন্ধকার করে বজ্রপাত সহ যে ভীষণ বৃষ্টিপাত হয় তাঁর অর্থ আজ ষষ্টির সকালে বোঝা গেল। মনে হয় দেবীর উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেই মর্ত্যলোক ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠছিল। কালের অমোঘ নিয়মকে উপেক্ষা করার ক্ষমতা কারও নেই, তাই ষষ্টি-র প্রভাতে দেবী সরস্বতীর ঘট বিসর্জনের সাথে সাথে তাঁর মানস কন্যা লতা কে নিয়ে দেবী পাড়ি দিলেন সুরোলোকে। যেন দেবী এইবারে ধরাধামে এসেছিলেনই তার মানসকন্যা কে নিয়ে যেতে। দীর্ঘ দিনের অসুস্থতা ভোগ করে ইহলোকের মায়া কাটিয়ে, সকলকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার পরম প্রিয় লতাজি। আজ যেন দেশের প্রতিটি সঙ্গীত প্রেমীর ঘরে নেমে এসেছে প্রিয়জন বিয়োগের শোক। সেই ছেলে বেলা থেকেই আর পাঁচটা মেয়ের মত লতাজির গান শুনে বড় হয়েছি। তিনি যেন আমাদের সকল অভিব্যাক্তিতে রয়েছেন। কখনও বা আছেন আমাদের অহেতুক আক্রমণের ভাষায়। রাত বিরেতে রেওয়াজ করায় পাড়া প্রতিবেশী আড়ালে আবডালে প্রায়ই আমার অভিভাবকদের ঠেস দিয়ে শুনিয়েছেন মেয়ে কি লতা মঙ্গেশকর হবে নাকি! প্রথম সেই পেটে প্রজাপতি সুরসুরি দেওয়া প্রেমের জিন্দেগী অউর কুছ ভি নেহি, তেরি মেরি কাহানি হ্যায় অনুভুতিতে যেমন ছিলেন তিনি। তেমনিই ছিলেন আষাঢ় শ্রাবণ মানে না এমন এর স্মৃতি চারণে। লতাজির মতো মানুষের মৃত্যু হয় না। গীতায় আছে, न जायते म्रियते वा कदाचि- न्नायं भूत्वा भविता वा न भूयः | अजो नित्यः शाश्र्वतोSयं पुराणो न हन्यते हन्यमाने शरीरे অর্থাৎ আত্মা অবিনশ্বর, তাঁর মৃত্যু হয় না। শিল্পীর মৃত্যু হয়, শিল্পের নয়। আমার মতো যে মানুষগুলো যাঁদের এতো বোঝার মতো জ্ঞান নেই তাঁদের জন্য লতাজি ছিলেন, আছেন, থাকবেন। কবেই সহজ ভাবে গেয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন নাম গুম জায়েগা, চেহেরা ইয়ে বদল জায়েগা, মেরি আওয়াজ হি পেহচান হ্যাই...গর ইয়াদ রহে

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২২
দেশ

"ইয়ে মেরে বতন কে লোগো..." শুনে চোখে জল এসেছিল নেহেরুর

সঙ্গীতের আকাশ প্রদীপ চলে গেলেন দুূরে তারার দেশে। না যেও না রজনী এখনও বাকি বলে তাঁকে আর আটকানো যাবে না। বসন্ত পঞ্চমী রজনী পার করে সঙ্গীতের বরপুত্রি মা দেবী সরস্বতীর হাত ধরে চললেন সুরের লোকে। করোনার করাল গ্রাসে চলে গেলেন আরও এক কিংবদন্তী। ২০২০ থেকে এই সর্বগ্রাসী অতিমারিতে এক এক করে অনেক মহান শিল্পী, অভিনেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সহ সাধারন মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে। হিন্দী বাংলা সহ মোট ৩৬ টির-ও বেশী আঞ্চলিক ভাষায় তিনি গান করেছেন। ১৯৬২ তে ভারত চীন যুদ্ধের ঠিক পরের বছর ১৯৬২-র প্রজাতন্ত্র দিবসে পণ্ডিত নেহেরু-র আহ্বানে সুর-সম্রাজ্ঞী দিল্লী-র ন্যাশানাল স্টেডিয়ামে রাষ্টপতি সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের উপস্থিতিতে কবি প্রদীপের লেখা ও রামচন্দ্রর সুরারোপিত ইয়ে মেরে বাতন কে লোগো... পরিবেশন করেন। লতা মঙ্গেশকরের অনবদ্য পরিবেশনায় পণ্ডিত নেহেরুর চখে জল এসে যায়। তিনি লাতাজির কন্ঠে দেশাত্মবোধক আবেদনে মুর্ছিত হয়ে ওই রকম জনবহুল পরিবেশে ও নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। এই গানটিকে জাতীয় সংহতির এক আদর্শ গান হিসাবে গণ্য করা হয়ে থাকে এবং জন গণ মন, বন্দে মাতরম এবং সারে জাহান সে... র পাশাপাশি অন্যতম জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান হিসেবে বিবেচিত হয়।লতা মঙ্গেশকর প্রায় এক হাজারেরও বেশি ভারতীয় সিনেমায় ও আধুনিক গানের অ্যালবামে গান গেয়েছেন। তাঁর গাওয়া মোট গানের সংখ্যা দশ হাজারেরও বেশি। এছাড়া ভারতের ৩৬টি আঞ্চলিক ভাষাতে ও বিদেশি ভাষায় গান গাওয়ার একমাত্র রেকর্ডটি তাঁরই দখলে।কিন্নর কন্ঠি লতা মঙ্গেশকর তার সঙ্গীত জীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। সঙ্গীতে তাঁর অবদানের জন্য ২০০১ সালে তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা ভারতরত্নে ভূষিত করা হয়। এম এস সুব্বুলক্ষ্মীর পর তিনিই দ্বিতীয় সঙ্গীত শিল্পী যিনি এই সন্মানে ভুষিত হন। ১৯৮৯ সালে ভারত সরকার তাঁকে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত করে। ২০০৭ সালে ফ্রান্স সরকার তাকে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মননা লেজিওঁ দা ওনার অফিসার খেতাবে ভূষিত করে।এছাড়াও লতাজি ৩টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৫টি বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার (বিএফজে), ৪টি শ্রেষ্ঠ মহিলা নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, ২টি বিশেষ ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা (Life Time Achivement Award) পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। ১৯৭৪ সালে তিনি প্রথম ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে লন্ডনে রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এক সময় মনে হত তিনি যে উচ্চতায় পৌঁছেছেন তাতে সেই পুরস্কার নিজেই ধন্য হত তাঁর হাতে যেতে পেরে। কারণ পরবর্তী পুরস্কার প্রপকরা বলতে পারবেন এই পুরস্কার লতাজিও পেয়েছেন।লতাজি ১৯৯৯ এ ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণ, ১৯৬৯ এ তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণে ভূষিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি ১৯৯৭ এ মহারাষ্ট্র ভূষণ পুরস্কার, ১৯৯৯ এ এনটিআর জাতীয় পুরস্কার, জি সিনে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার, ২০০৯ এ এএন আর জাতীয় পুরস্কার। তিনি ১৯৬৯ রে নতুন প্রতিভাদের উঠে আসতে সাহায্য করার জন্য শ্রেষ্ঠ মহিলা নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তী কালে তিনি ১৯৯৩-এ ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার এবং ১৯৯৪ ও ২০০৪ এ দুবার ফিল্মফেয়ার বিশেষ পুরস্কার তাঁকে প্রদান করেন।পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে লতা-ই সর্বজ্যেষ্ঠ। তার বাকি ভাইবোনেরা হলেন - আশা, ঊষা, মীনা ও একমাত্র ভাই হৃদয়নাথ। স্বয়ং মা সরস্বতীর আশির্বাদ-ধন্যা কিন্নর কন্ঠি লতা মঙ্গেশকর ১৯২৯ র ২৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ইন্দোর রাজ্যের (অধুনা মধ্যপ্রদেশ) রাজধানী ইন্দোর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর একজন প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ (মারাঠি ও কোঙ্কিণী) এবং নাট্য অভিনেতা ছিলেন। তাঁর মাতা শেবন্তী (পরবর্তী নাম পরিবর্তন করে সুধামতি হন)। মঞ্চাভিনেতা এবং সঙ্গীতজ্ঞ দীননাথ তাঁর ছোট্ট মেয়ে লতাকে প্রথমে হেমা বলে ডাকতেন। পরে দীননাথের ভাব বন্ধন নাটকের লতিকা নামের এক চরিত্রে অনুপ্রানিত হয়ে সে নাম পরিবর্তন করে লতা রাখা হয়। খুব কম বয়সে লতা তাঁর বাবাকে হারান। বাবা মারা যাওয়ার পর পুরো পরিবারের দ্বায়িত্ব এসে পরে কিশোরী লতার কাঁধে। তিনি আশা, ঊষা, মীনা এবং হৃদয়নাথকে প্রতিপালনের জন্য এই ছোট্টো বয়সে উপার্জনের জন্য তাকে রাস্তায় বেরিয়ে পরতে হয়। বাবার অকাল মৃত্যুর পর পরিবারিক বন্ধু বিনায়ক দামোদর কর্নাটকি পাশে না থাকলে হয়ত খুবই সমস্যায় প্রতেন কিশোরী লতা ও পরিবার। নবযুগ চিত্রপট ছায়াছবি সংস্থার মালিক বিনায়কের উদ্যোগে লতা মরাঠি ছবিতে গান গাওয়া ও অভিনয়ের সুযোগ পায়। পরিবারের পাশে থাকতেই ছবিতে অভিনয় করেছেন ছোট্টো লতা। তখন সবে মাত্র ১৩! তিনি রুপালি পর্দার জগত তাঁর মন জয় করতে ব্যর্থ, সেখানে তিনি বেশি দিন থাকেননি। অভিনয় করার কথা মন থেকে ত্যাগ করেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁর নিজের জীবন নিয়ে বলতে গিয়ে এই প্রায়ই নিজের অভিনয় জীবন প্রসঙ্গে বলতেন লতা।বাবা দীনানাথ মঙ্গেশকরের নির্দেশে ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে কোনও সময়েই কে এল সায়গল ব্যতীত অন্য কোনও গান গাইবার অনুমতি ছিল না লতার। বাবা চাইতেন লতা শুধুমাত্র ধ্রপদী গান নিয়েই বড় হয়ে উঠুক। তাঁর আঠারো বছর বয়েসে তিনি তাঁর উপার্যনের পয়সায় জীবনে যেদিন প্রথম রেডিও কিনে আনলেন, এবং সেই রেডিওতে প্রথম যে খবরটা শুনলেন সেটা কে এল সায়গল-র মৃত্যু সংবাদ। রেডিওটি বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গেই ফেরত দিয়ে দেন তিনি।পরিবারের তাগিদে উপার্যনের জন্য তিনি বিভিন্ন মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেসন করতেন। প্রথম বার মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশন করে লতা ২৫ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। খেমচাঁদ প্রকাশের সুরে অশোককুমার-মধুবালা অভিনীত মহল-এ আয়েগা আনেওয়ালা গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা তাঁর কেরিয়ারের গ্রাফ সেই যে উর্ধমুখী হয়, তাঁর পর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি সুরের সরস্বতী লতাকে।

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২২
বিনোদুনিয়া

দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত কেকে মেনন

২৬ বছরের কেরিয়ারে ৫০টিরও বেশি ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। কেতন মেহতার পরিচালনায় ছোটপর্দায় অভিনয় করে একটু একটু করে পরিচিতি পান। বড় পর্দায় বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করলেও সাফল্যের মুখ তিনি দেখেছেন ২০০৫ সালে রাম গোপাল ভার্মার সরকার ছবিতে। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে এবার ঝুলিতে এল অন্যতম বড় স্বীকৃতি। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন অভিনেতা কেকে মেনন।মোস্ট ভার্সেটাইল অ্যাক্টর ক্যাটেগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন মেনন। সেই ছবি নিজের ইনস্টাগ্রাম পেজে শেয়ার করেছেন অভিনেতা। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নেটিজেনরা। তিন দশক ধরে ভারতীয় সিনে দুনিয়ায় অবদানের জন্য কেকে মেননকে এই পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২০ তারিখ সরকারি ভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। দাদাসাহেব ফালকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি চিঠিও লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র পুরস্কার এটি। যাঁরা এই সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন তাঁদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১

ট্রেন্ডিং

দেশ

আমেরিকা-ইউরোপের সমালোচনার মাঝেই রাশিয়া নিয়ে বড় বার্তা জয়শংকরের, মনে করালেন সেই পুরনো ‘বন্ধুত্ব’

রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে ফের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল নয়াদিল্লি। রুশ তেল কেনা নিয়ে আমেরিকা ও ইউরোপের একাংশের সমালোচনার মধ্যেই বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর মনে করিয়ে দিলেন, ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক শুধুমাত্র বর্তমান পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল নয়। এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস এবং কঠিন সময়ে মস্কোর পাশে থাকার অভিজ্ঞতা। জয়শংকরের কথায়, দেশের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা যখনই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তখনই সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পরে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।রবিবার নয়াদিল্লিতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের আলোচনায় রাশিয়া প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন জয়শংকর। তিনি বলেন, মানুষ যেমন ভাল ইতিহাস ভুলে যায় না, তেমনই খারাপ ইতিহাসও ভুলে যায় না। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে স্বাধীনতার পর থেকে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের দীর্ঘ সম্পর্কের প্রসঙ্গ। বিদেশমন্ত্রীর মতে, প্রতিটি দেশ নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বিচার করে। তাই ইউরোপ যে ভাবে রাশিয়াকে দেখবে, ভারত একই ভাবে রাশিয়াকে দেখবে, এমনটা হওয়ার নয়।জয়শংকর বিশেষ করে সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দেন, যখন আন্তর্জাতিক মহলের বড় অংশ পাকিস্তানের সামরিক শাসনের পাশে ছিল। তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রসঙ্গও উঠে আসে। সেই সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করে বিদেশমন্ত্রী বলেন, ভারতের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা যখন চাপের মুখে পড়েছিল, তখন মস্কো নয়াদিল্লির পাশে ছিল। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় বঙ্গোপসাগরে আমেরিকার নৌবহর পাঠানোর ঘটনাকেও তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে বদলেছে ঠিকই, কিন্তু তার ভিত্তি এখনও শক্তিশালী। সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি পরমাণু শক্তি, বাণিজ্য, জ্বালানি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে। তাঁর কথায়, রাশিয়া সম্পর্কে ভারতের অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিন ধরেই ইতিবাচক এবং সেই অভিজ্ঞতা বর্তমান নীতিতেও প্রভাব ফেলছে।এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে পশ্চিমী দেশগুলির চাপ ও সমালোচনা অব্যাহত। জয়শংকর এর আগেও স্পষ্ট করেছেন যে জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে ভারতের সিদ্ধান্ত নির্ভর করে জ্বালানির প্রাপ্যতা, দাম এবং ঝুঁকির মতো বিষয়গুলির উপর। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই সরবরাহের উৎস ঠিক করা হয়।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন জয়শংকর। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন এবং আলোচনার মাধ্যমেই তার পথ খুঁজতে হবে। তিনি জানান, ভারত রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখে সংঘাতের অবসানে সহায়ক ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল, খাদ্য ও জ্বালানি রফতানি এবং সংঘাত কমানোর মতো বিষয়েও ভারতের আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।সব মিলিয়ে রুশ তেল নিয়ে পশ্চিমী চাপের মধ্যেও জয়শংকরের বক্তব্যে ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের অবস্থানই ফের সামনে এসেছে। ইতিহাস, নিরাপত্তা এবং জ্বালানি প্রয়োজনএই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬
কলকাতা

এসআরএফটিআই-এর গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা! মিছিল ঘিরে তুমুল উত্তেজনা, ছোড়া হল ইট-পাথর

বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মিছিল ঘিরে ফের উত্তেজনা ছড়াল এসআরএফটিআই-এর সামনে। অজয়নগর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গেট পর্যন্ত মিছিল করে সংগঠনটি। অভিযোগ, গেটের সামনে পৌঁছনোর পর কয়েক জন মিছিলকারী ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।এ দিকে, মিছিলকারীরা গেটের বাইরে জড়ো হওয়ার সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে পড়ুয়া এবং অধ্যাপকদের হেলমেট পরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। বাইরে থেকে ভিতরে ইট ও জলের বোতল ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। পাল্টা বিক্ষোভকারীদের কয়েক জনও আহত হয়েছেন বলে দাবি বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের।এই ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবারের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। এসআরএফটিআই-এর অডিটোরিয়ামে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির একটি অনুষ্ঠান ছিল। অভিযোগ, সেখানে এসএফআইয়ের কয়েক জন পড়ুয়া গিয়ে উত্তেজনা তৈরি করেন। ভারতমাতা এবং স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও ওঠে। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির তরফে প্রতিবাদ জানানো হয়।এর পর দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইট-পাথর ছোড়াছুড়ির অভিযোগে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। ঘটনায় কয়েক জন আহত হন বলে দাবি। প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এই ঘটনায় চারটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার পর উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ সরকার জানিয়েছিলেন, ভারতমাতা বা স্বামী বিবেকানন্দকে অসম্মান করার অভিযোগে কাউকে রেয়াত করা হবে না। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই এ দিন বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মিছিল হয়।অজয়নগর থেকে মিছিলটি এসআরএফটিআই-এর গেটের সামনে পৌঁছতেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, কয়েক জন বিক্ষোভকারী গেট ধরে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন এবং ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। এর মধ্যেই ভিতরে থাকা পড়ুয়া এবং অধ্যাপকদের দিকে জলের বোতল ও পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।এই ঘটনায় অধ্যাপক দেবাশিস সেনশর্মা আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতেই তিনি আহত হন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।অন্য দিকে, বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দাবি, তাঁদের কয়েক জন সদস্যও আহত হয়েছেন। সংগঠনের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতর থেকে পড়ুয়া এবং অধ্যাপকদের ছোড়া জলের বোতলের আঘাতেই তাঁদের কয়েক জন জখম হয়েছেন। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন ভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য মেলেনি।বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যদের বক্তব্য, ভারতমাতা এবং স্বামী বিবেকানন্দের ছবিকে অসম্মান করার অভিযোগের প্রতিবাদেই তাঁদের এই কর্মসূচি। সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই মিছিলের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনা তৈরি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে পুলিশ। এসআরএফটিআই-এর তরফে এই দিনের ঘটনার বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে গেটের সামনে ঠিক কী ভাবে ইট-পাথর ও জলের বোতল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের অভিযোগই এখন সামনে রয়েছে।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬
বিদেশ

‘বিমানটাকে ধ্বংস করাই ছিল লক্ষ্য’, জেরায় কী বললেন ফ্লাইদুবাইয়ের সহকারী পাইলট? সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

মাঝ আকাশে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের উপর হামলার ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। তদন্তকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওমানের নাগরিক সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামি জেরায় জানিয়েছেন, যাত্রী-সহ বিমানটি ধ্বংস করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। একই জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নাকি বলেছেন, আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না।এই তথ্য প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তদন্তকারীদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় হামাম নিজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এমন কথা জানিয়েছেন। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি অন্য তথ্য-প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার। দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি। মাঝ আকাশে আচমকাই ককপিটে ভারতীয় অধিনায়ক স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা করেন সহকারী পাইলট হামাম। বিমানের ককপিটে থাকা জরুরি কুঠার ব্যবহার করে হামলা করা হয়েছিল বলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরপর বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত নীচের দিকে নামতে শুরু করে।আক্রমণের পরেও স্মিত মচ্ছর ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত যাত্রী এবং বিমানে থাকা অন্যদের সাহায্যে হামামকে কাবু করা সম্ভব হয়। পরে অন্য পাইলটরা বিমানের নিয়ন্ত্রণ সামলে নেন। বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।এই ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, ককপিটে এমন ভয়াবহ হামলার আসল উদ্দেশ্য কী ছিল। প্রথম দিকে ব্যক্তিগত বিরোধের সম্ভাবনা নিয়েও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, তদন্তে সহকারী পাইলটের সন্ত্রাসী হামলা চালানোর চেষ্টা ধরা পড়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।এখন তদন্তকারীরা হামামের অতীত, তাঁর মতাদর্শ এবং অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। ওমানের কর্তৃপক্ষ আগে তাঁর বিমান চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বলে তদন্ত-সূত্র উদ্ধৃত করে একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তাঁর কথিত উগ্রপন্থী ভাবধারার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।হামামকে সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইজরায়েলের তদন্তকারী সংস্থাগুলি ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। তাঁর সঙ্গে কোনও বহিরাগত শক্তির যোগাযোগ ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তদন্তের অংশ।বিমানটির আকস্মিক পতনের ভয়াবহতাও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। উড়ান-তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটির সময় বিমানটি মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল। যাত্রী ও বিমানের অন্য কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপ এবং পরে অতিরিক্ত পাইলটদের সহায়তায় বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।ফলে ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনা এখন শুধু ককপিটে পাইলটের উপর হামলার তদন্তে সীমাবদ্ধ নেই। বিমানটি কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, হামামের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তাঁর অতীত সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কতটা তথ্য জানত এবং তাঁর সঙ্গে অন্য কারও যোগাযোগ ছিল কি নাএই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামামের জেরায় উঠে আসা দাবিগুলির পাশাপাশি অন্যান্য প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসির ম্যাচে টিকিট কেটেও ঢুকতে পারেননি? এ বার উরুগুয়ে ম্যাচে বড় উপহার, ২২ হাজার পাস বিনামূল্যে!

মেসির ম্যাচে টিকিট কেটেও যাঁরা বঞ্চিত হয়েছিলেন, তাঁদের জন্য বড় ঘোষণা। আগামী ৬ অক্টোবর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত-উরুগুয়ে ম্যাচে ২২ হাজার বিনামূল্যের পাস দেওয়া হবে। গত বছর মেসির কলকাতা সফরের অনুষ্ঠানের জন্য অনলাইনে টিকিট কেনা দর্শকদের মধ্য থেকেই এই সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।তবে প্রশ্ন ছিল, সেই পাস পাওয়া যাবে কোথা থেকে এবং কী ভাবে? এ বার সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তাঁর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় মেসির অনুষ্ঠানের জন্য যাঁরা টিকিট কিনেছিলেন, তাঁরাই ভারত-উরুগুয়ে ম্যাচের বিনামূল্যের পাস সংগ্রহ করতে পারবেন।পাস সংগ্রহের সময়ও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৫ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে পাস সংগ্রহ করতে হবে। তবে শুধু আগের টিকিট থাকলেই হবে না। পাস নিতে গেলে সঙ্গে রাখতে হবে বৈধ সরকারি ছবি-সহ পরিচয়পত্র। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স অথবা পাসপোর্টের মতো পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। একই সঙ্গে গত ডিসেম্বরে মেসির অনুষ্ঠানের জন্য কেনা আসল টিকিটও সঙ্গে রাখতে হবে।অর্থাৎ মেসির অনুষ্ঠানের পুরনো টিকিটটি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই টিকিট এবং বৈধ পরিচয়পত্র যাচাই করার পরেই বিনামূল্যের পাস দেওয়া হবে। নতুন করে ভারত-উরুগুয়ে ম্যাচের টিকিট কেনার প্রয়োজন হবে না এই নির্দিষ্ট দর্শকদের।গত বছরের ডিসেম্বরে মেসিকে দেখতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিপুল ভিড় হয়েছিল। বহু দর্শক টাকা দিয়ে টিকিট কেনার পরেও প্রত্যাশিত ভাবে অনুষ্ঠান দেখতে পারেননি। ভিড় ও বিশৃঙ্খলা নিয়ে সেই সময় ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার পর বঞ্চিত দর্শকদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ছিল। এ বার তাঁদের মধ্য থেকে ২২ হাজার দর্শককে ভারত-উরুগুয়ে ম্যাচ দেখার সুযোগ করে দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই এই ঘোষণা সামনে আসে। তার পর থেকেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, বঞ্চিত দর্শকরা কোথা থেকে পাস সংগ্রহ করবেন। ক্রীড়ামন্ত্রীর ঘোষণায় এ বার সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরনো টিকিট এবং বৈধ পরিচয়পত্র নিয়ে পাস সংগ্রহ করতে হবে।ফলে যাঁরা গত ডিসেম্বরে মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে টিকিট কেটেও বঞ্চিত হয়েছিলেন, তাঁদের জন্য এ বার যুবভারতীতেই ফের আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখার সুযোগ তৈরি হল। ৬ অক্টোবর ভারত-উরুগুয়ে ম্যাচে সেই দর্শকদের একাংশ গ্যালারিতে থাকবেন কি না, এখন সেটাই দেখার।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

সৃজলার কাছে বারবার ক্ষমা, এবার প্রকাশ্যেই কাঁদতে কাঁদতে কী বললেন নন্দিনীর মা?

বিগ বসের দুর্গে সৃজলা গুহর সঙ্গে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা নিয়ে এখনও অনুশোচনায় রয়েছেন নন্দিনী দত্ত। ঘটনার পর একাধিক বার সৃজলার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। এবার প্রকাশ্যেই সৃজলার পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইলেন নন্দিনীর মা। একটি সাক্ষাৎকারে মেয়ের হয়ে ক্ষমা চেয়ে তিনি আবেদন করেন, সৃজলার পরিবার যেন নন্দিনীকে ক্ষমা করে দেয়।নন্দিনীর মা বলেন, পারলে প্লিজ ওকে ক্ষমা করে দিন। দুসপ্তাহ ধরে তো দেখছি, ঘটনার পর থেকে নন্দিনী ভালো নেই।কী ঘটেছিল বিগ বসের দুর্গে? কয়েক সপ্তাহ আগে ক্যাপ্টেন হওয়ার টাস্কে প্রথমে সঙ্গীতের চেয়ার খেলা হয়। সেই পর্বের পর পরবর্তী খেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান সৃজলা, মনামী, জীতু, তনুশ্রী এবং রাজবীর। তাঁদের সামনে ছিল কাঠের ঘোড়ায় বসে থাকার টাস্ক। যিনি শেষ পর্যন্ত ঘোড়ায় বসে থাকতে পারবেন, তিনিই ক্যাপ্টেন হবেন।খেলার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিযোগীরা অন্যদের ঘোড়া থেকে নামানোর চেষ্টা করতে পারতেন। তবে সেই সময় কারও শরীরে আঘাত না করার নিয়ম ছিল। সেই টাস্ক চলাকালীন নন্দিনী সৃজলাকে ঘোড়া থেকে নামানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় সৃজলা পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট পান। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।চোটের কারণে সৃজলাকে পাঁচ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। চিকিৎসার পর তিনি আবার বিগ বসের দুর্গে ফিরে আসেন। সৃজলা ফিরে আসার পর থেকেই নন্দিনীকে একাধিক বার তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। নিজের ভুল স্বীকার করে ফের বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টাও করতে দেখা যায় তাঁকে।তবে সৃজলার পক্ষ থেকে এই ঘটনায় কষ্ট বা রাগ থাকা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন অনেকেই। সেই আবহেই কয়েক দিন আগে প্রতিযোগীদের পরিবারের উদ্দেশে চিঠি লেখার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই চিঠিতে নন্দিনী তাঁর মা-বাবাকে সৃজলার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।এবার সেই অনুরোধের কথাই প্রকাশ্যে জানালেন নন্দিনীর মা। মেয়ের হয়ে সৃজলার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে নন্দিনী মানসিক ভাবে ভালো নেই। তাই সৃজলার পরিবার যদি তাঁকে ক্ষমা করে, সেটাই তাঁদের কাছে বড় বিষয় হবে।অন্য দিকে, সাক্ষাৎকারে রাজবীরের প্রসঙ্গও ওঠে। সেই প্রসঙ্গে নন্দিনীর মা স্পষ্ট করে জানান, মেয়ের পছন্দই তাঁদের পছন্দ। ফলে বিগ বসের দুর্গে সৃজলা-নন্দিনীকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই নন্দিনীর পরিবারের তরফে এল নতুন বার্তা।সৃজলার চোটের পর থেকে এই ঘটনা নিয়ে বিগ বসের দর্শকদের মধ্যেও আলোচনা চলছে। এক দিকে নন্দিনীর অনুশোচনা ও ক্ষমা চাওয়া, অন্য দিকে সৃজলার পরিবারের প্রতি তাঁর মায়ের প্রকাশ্য আবেদনসব মিলিয়ে ঘটনাটি ফের নতুন করে চর্চায় এসেছে।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬
কলকাতা

‘পা ভাঙেনি’ শুভেন্দুর দাবির পরেই নতুন বিস্ফোরণ, মমতার পুরনো ছবি দেখিয়ে কী প্রশ্ন শান্তনুর?

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে ঠিক কী হয়েছিল, পাঁচ বছর পর সেই পুরনো ঘটনা ঘিরে ফের তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে কোনও হাড় ভাঙার প্রমাণ ছিল না। একটি চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি দেখিয়ে তিনি এই দাবি করেন এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্তের কথাও জানান।শুভেন্দুর ওই দাবির পরেই এ বার সরব হলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা চিকিৎসক শান্তনু সেন। সমাজমাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার সময়ের চারটি ছবি প্রকাশ করে তিনি একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। একটি ছবিতে গোড়ালির কাছে কালশিটের দাগ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। অন্য একটি ছবিতে গোড়ালির কাছে রক্তপাতের মতো দাগ রয়েছে। বাকি ছবিগুলিতে পায়ে প্লাস্টার দেখা যাচ্ছে।এই ছবিগুলি প্রকাশ করে শান্তনু সেন দাবি করেছেন, ১০ মার্চ চোট পাওয়ার পর এসএসকেএম হাসপাতালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের যে ছবি দেখা গিয়েছিল, সেখানে গোড়ালির উপরে কালশিটে ছিল, কিন্তু রক্তপাতের চিহ্ন ছিল না। তাঁর প্রশ্ন, পরে প্রকাশিত ছবিতে রক্তের দাগ দেখা গেল কী ভাবে?শান্তনুর আরও প্রশ্ন, যদি চোট পাওয়ার সময় রক্তপাত না হয়ে থাকে, তা হলে পরবর্তী সময়ে ছবিতে রক্তের মতো দাগ কেন দেখা গেল? একই সঙ্গে পায়ে দীর্ঘদিন প্লাস্টার থাকার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসক হিসেবে তিনি অভিযোগ করছেন না, কিছু বিষয় নিয়ে পর্যবেক্ষণ জানাচ্ছেন।শান্তনু সেনের দাবি, কোনও আঘাতের কারণে রক্তপাত হলে সাধারণত সেই সময়েই তার প্রকাশ ঘটে। পরে সেই রক্তপাতের ছবি সামনে এলে সেটিকে পুরনো আঘাতের সঙ্গে যুক্ত করা কঠিন। পায়ে প্লাস্টার করার প্রয়োজন হলে সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের পর তা খুলে ফেলার কথাও বলেন তিনি। তবে এই মন্তব্য তাঁর চিকিৎসক হিসেবে ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ, ২০২১ সালের চিকিৎসা-ঘটনা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।এত দিন কেন তিনি এই প্রশ্ন তোলেননি, সেই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন শান্তনু। তাঁর বক্তব্য, এত দিন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল না বলেই তিনি কিছু বলেননি। এখন নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে বলেই তিনি নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন।একই সঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকদের নিয়ে পুরনো অভিযোগের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন শান্তনু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পারিবারিক চিকিৎসক এসপি দাসকে ঘিরেও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, আগে তিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কথিত ভয় দেখানোর সংস্কৃতি নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন এবং তার জেরেই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।তবে শান্তনুর এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলে থাকাকালীন শান্তনু সেন দলের কাছ থেকে একাধিক রাজনৈতিক সুযোগ পেয়েছেন। এত বছর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো চোট নিয়ে প্রশ্ন তোলারও সমালোচনা করেন তিনি।এর মধ্যেই ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম-চোটের ঘটনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী যে চিকিৎসা-নথি প্রকাশ্যে এনেছেন, তাতে ১১ মার্চের পরীক্ষার রিপোর্টে পায়ে হাড় ভাঙার প্রমাণ না থাকার কথা বলা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। অন্য দিকে, সেই সময়ের চিকিৎসা-পর্বে মমতার পায়ে গুরুতর আঘাতের কথা হাসপাতালের চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছিল। ফলে পুরনো নথি, নতুন দাবি এবং পাল্টা প্রশ্ন ঘিরে বিতর্ক আরও জটিল হয়েছে।এই আবহে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও পুরনো ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে মমতার চোট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে নন্দীগ্রামে ২০২১ সালের সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঁচ বছর পর আবারও রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আসলে সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে কী ধরনের চোট হয়েছিল, প্রকাশ্যে আসা চিকিৎসা-নথি ও ছবির মধ্যে কী সম্পর্ক রয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই এখন শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬
রাজ্য

সিপিএম অফিসের সামনেই হনুমান চালিশা পাঠ! স্বপনের মন্তব্যে তেতে উঠল বাঁকুড়া, ‘ওষুধ’-এর হুঁশিয়ারি

হনুমান চালিশা নিয়ে সিপিআই-এর রাজ্য সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়ল। তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদে বাঁকুড়া জেলা সিপিএম কার্যালয়ের সামনে হনুমান চালিশা পাঠের আয়োজন করল বজরং দল। শনিবার সন্ধ্যার এই কর্মসূচিকে ঘিরে বাঁকুড়া সদর এলাকায় রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। সংগঠনের তরফে স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি সভায় হনুমান চালিশা পাঠ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, হনুমান চালিশা হনুমানেরাই পড়ে। তাঁরা হনুমান নন এবং হনুমানের দলও করেন না। তাঁদের রাজনৈতিক আদর্শ মার্কসবাদ, লেনিনবাদ এবং গান্ধীবাদএমনই বক্তব্য রেখেছিলেন তিনি। সেই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়।এর পর শনিবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়া জেলা সিপিএম কার্যালয়ের সামনে হাজির হন বজরং দলের কর্মীরা। সেখানে হনুমান চালিশা পাঠ করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু কোনও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কটাক্ষ করা হলে তার প্রতিবাদ করা হবে।বজরং দলের নেতা বাপ্পা দাস বলেন, স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা না চাইলে তাঁরা তাঁদের মতো করে ওষুধ ঠিক করে রেখেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ওষুধ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি বাপ্পা। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।বজরং দলের দাবি, তাঁদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল। কোনও হিংসাত্মক কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়নি বলেও সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতাদর্শের সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করে মন্তব্য করা উচিত নয়। সেই কারণেই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে প্রকাশ্যে মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।অন্য দিকে, ওষুধ শব্দটি ব্যবহার করে দেওয়া বার্তাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের একাংশের বক্তব্য, ধর্মীয় আবেগকে সামনে রেখে এমন ভাষা ব্যবহার করলে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেনি এবং বজরং দলের পক্ষ থেকেও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কথাই জানানো হয়েছে।ফলে হনুমান চালিশা নিয়ে স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়ায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। সিপিএম কার্যালয়ের সামনে হনুমান চালিশা পাঠ এবং তার পরেই ক্ষমা না চাইলে ওষুধ-এর মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬
রাজ্য

বাইরনের বাড়িতে আগুনের নেপথ্যে কী? দুর্ঘটনা, না কি ইচ্ছাকৃত অগ্নিকাণ্ড—তদন্তে পুলিশ

মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে নিজের বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ তাঁর বাড়ি থেকে আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় দমকলে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে বাড়ির ভিতর থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বাইরনকে উদ্ধার করা হয়। এই অগ্নিকাণ্ড কী ভাবে ঘটল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।স্থানীয়দের দাবি, বাড়ির দোতলা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তাঁরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেন। খবর পেয়ে দমকল ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের তৎপরতায় বাইরনকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে।অগ্নিকাণ্ডে বাইরনের হাত ও পায়ের বেশ কিছু অংশ পুড়ে গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শরীরের কতটা অংশ পুড়েছে, তা নিয়ে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাঁর আঘাতের মূল জায়গা হাত ও পা বলেই জানা গিয়েছে।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কী ভাবে বাইরনের বাড়িতে আগুন লাগল? প্রাথমিক ভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ ও দমকল বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। একটি প্রতিবেদনে বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা বাড়ির সঙ্গে যুক্ত বিড়ি তৈরির কারখানা থেকে আগুন ছড়ানোর সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। ফলে এখনই ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হামলা বা পুড়িয়ে মারার চেষ্টা বলে নিশ্চিত করার মতো তথ্য সামনে আসেনি।তবে ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বাইরন সেই সময় বাড়ির ভিতরে কেন ছিলেন, আগুনের সূত্রপাত ঠিক কোথায় এবং কী ভাবে আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের পিছনে দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা স্পষ্ট হবে না।বাইরন বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আপাতত স্বস্তির খবর দিয়েছে পুলিশ। জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তাঁর আঘাত খুব গভীর নয় এবং তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন। অন্য দিকে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও দমকল। ফলে সাগরদিঘির বিধায়কের বাড়িতে এই আগুন নিছক দুর্ঘটনা, না কি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে তদন্তকারীরা।

অক্টোবর ০৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal